মুহা. তারিক আবেদীন ইমন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৩৭ এএম
আবাসিক ও শিল্পখাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর আবাসিক এলাকায় প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত একেবারেই গ্যাস মিলছে না। অনেক এলাকায় রাত ১২টার দিকে এসে আবার ভোরেই চলে যায় গ্যাস। আগে কিছু এলাকা এলাকাকেন্দ্রীক গ্যাস সংকট থাকলেও এখন পুরো রাজধানীজুড়ে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। শুধু আবাসিকেই নয়, গ্যাসের তীব্র গ্যাস সংকট রয়েছে শিল্প কারখানাতেও। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মত বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মালিবাগ, বাসাবো, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা, মানিকনগর, জুরাইন, কামরাঙ্গীচর এলাকায় গ্যাস সংকট নিয়মিত সমস্যা ছিল। সম্প্রতি নগরীর মগবাজার, ইস্কাটন, গুলশানসহ অনেক আভিজাত এলাকাতেও গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।
এসব এলাকার অধিকাংশ ভুক্তভোগীর ভাষ্য, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪-৫টা পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। রাতে রান্না করে রাখার পরে সকালে দিনের বেলা যে তা গরম করবেন সেই উপায়ও থাকছে না অনেক এলাকায়। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন। ঝুঁকছেন ইলেকট্রিক চুলায়।
রাজধানীর, মুগদা এলাকার বাসিন্দা শাহানাজ বলেন, ‘কিছুদিন ধরে গ্যাস একেবারেই থাকছে না। আগে তাও সকালের দিকে থাকত, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকত। কিন্তু এখন সকালেও গ্যাস থাকছে না। কয়েকদিন আগে রাত ১১টার পরে আসত। এখন সেটাও বন্ধ হয়েছে।’
বাসাবো এলাকার নাজমুল বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই গ্যাসের সমস্যা। মাসখানেক আগে সকাল-সন্ধ্যা একটু থাকত। এখন সেটাও থাকে না। তিতাস অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয় না। যেন তাদের কোনো দায়দায়িত্ব নাই।’
শুধু আবাসিকেই নয়, গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়ে শিল্প কারখানাতেও। গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প কারখানার উৎপাদন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক অঞ্চলের ৫০-৬০ শতাংশ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে রফতানি কমে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বেশ কিছু জায়গায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারসহ অনেক এলাকায় গ্যাসের অবস্থা খুবই খারাপ। এসব এলাকায় বলতে গেলে গ্যাস নাই। এর ফলে প্রোডাকশন ড্রপ পড়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু এরিয়ায় ৫০-৬০ শতাংশ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আবার ম্যাক্সিমাম এলাকায় ২০-৩০ শতাংশ উৎপাদন লস হচ্ছে। সরকার-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতেছি। এখন পর্যন্ত সেরকম কোনো ইম্প্রুভমেন্ট হয়নি।’
ফারুক হাসান আরও বলেন, ‘এমনিতেই সারা ওয়ার্ল্ডের অবস্থা এখনও সেভাবে ফিরে আসে নাই। অর্ডার কম, কস্ট বেড়ে গেছে, ইন্টারেস্টের রেট বাড়ানো হয়েছে। আজকে রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আইএমএফ এর লোন নিতে হচ্ছে। আমরা বলছি আইএমএফ এর লোন নিতে হবে না, যদি গ্যাস সরবরাহ ঠিক রাখা হয়। আমাদের উৎপাদন ঠিকভাবে হলে আমরা এক্সপোর্ট আরও বাড়াতে পারব। আমি মনে করি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকারের যেই ধরনের একটিভিটিজ দরকার সেটা করা উচিত।’