জেলা প্রতিনিধি
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৪৭ পিএম
দেশের সীমিত আবাদযোগ্য জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ফসলের নীরিক্ষায় ‘রিমোর্ট সেন্সিং’ প্রযুক্তি চালু করেছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। এর মাধ্যমে আবাদকৃত জমির আয়তন নির্ণয় ও উৎপাদিত ফসল সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে।
বর্তমানে খুলনার ডুমুরিয়া, রূপসা ও তেরখাদায় রবি মৌসুমের আবাদকৃত ফসলের পরিমাণ নির্ণয়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। খুলনার লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রে এক মতবিনিময় সভায় সফটওয়্যার তৈরির প্রধান উদ্যোক্তা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সদ্য বিদায়ী মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে হঠাৎ করেই দেশে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিলো। এমন অবস্থা হলো যে— ২০০ টাকায়ও পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। আমাদের কাছে তথ্য ছিলো, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ৩০ লাখ মেট্রিক টন, চাহিদা ২২ লাখ মেট্রিক টন। প্রায় আট লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকার কথা। কিন্তু তখন মাঠ পর্যায়ের তথ্যে বড় ধরনের ভুল ধরা পড়ে। এরপর থেকে ফসল নীরিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়।’
জানা যায়, ‘রিমোর্ট সেন্সিং’ প্রযুক্তিতে স্যাটেলাইট থেকে প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর ভূমির ছবি তোলা হয়। কৃষি কর্মকর্তারাও ফসলের মাঠের ছবি তোলেন। দুই ছবিই সফটওয়্যার দিয়ে যাচাই করে ফসলের নির্দিষ্ট নম্বর দেয়া হয়। এরপর স্যাটেলাইটের ছবি সফটওয়্যারে দিয়ে ওই ফসল দেশের কোথায় কতটুকু জায়গায় চাষ হয়েছে জানতে চাইলে মুহূর্তেই ফলাফল পাওয়া যায়। বর্তমানে এভাবে স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করে ২৭টি ফসলের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এর আগে ফসলের নীরিক্ষায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মাঠ পর্যায়ে এ প্রযুক্তির ব্যবহারে সফলতা পাওয়া গেছে।
লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্র, খুলনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, এ প্রযুক্তি ব্যবহারে সফরটওয়্যারের মাধ্যমে ফসল নীরিক্ষায় নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায়। যা কৃষিকে আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে কৃষকের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করবে। সরকারি কৃষি বিষয়ক নীতি নির্ধারণ সহজ ও কার্যকরী হবে।
এএ