নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:১১ পিএম
দেশে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীদের ৮২ শতাংশ রোগীই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মোট ৯৩৭টি জিনোম সিকোয়েন্স গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিএসএমএমইউ জিনোম সিকোয়েন্সিং রিসার্চের প্রধান পৃষ্ঠপোষক (সুপারভাইজার) ও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গবেষণায় বাংলাদেশের সকল বিভাগের রিপ্রেজেন্টেটিভ স্যাম্পলিং করা হয়েছে। গবেষণায় গত ৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বমোট ভর্তি রোগী এবং বহির্বিভাগে আসা রোগীদের ৮২ শতাংশ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত এবং ১৮ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্ত পেয়েছি। এই সময়ে ওমিক্রনের তিনটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। সেগুলো হলো— BA.1, BA.1.1, BA.2। এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্যমতে BA.2 বেশি সংক্রামক।
বিএসএমএমইউ-এর গবেষণায় ৯ মাস থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বয়স পর্যন্ত রোগী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে ৫৯ বছর বয়সের রোগীদের সংখ্যা বেশি। শিশুদের মধ্যেও কোভিড সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে অনেক বেশি সংক্রামক। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের জিনোমে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি মিউটেশন পাওয়া গেছে, যার বেশির ভাগ ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনে হয়েছে। এই স্পাইক প্রোটিনের ওপর ভিত্তি করে বেশির ভাগ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়ে থাকে। আর স্পাইক প্রোটিনের গঠনগত বদলের জন্যই প্রচলিত ভ্যাকসিনেশনের পরেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
গবেষণার পর্যবেক্ষণে বলা হয়:
১. ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এখন বাংলাদেশের কোভিড-১৯ সংক্রমনের প্রধান উৎস যেটি কিছুদিন পূর্বে ডেল্টা ছিলো।
২. ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া ছিলো এতে এটা প্রমাণ করে যে, ভ্যারিয়েন্ট নয় টিকা নেওয়ার প্রখরতা কম হয়েছে।
৩. তৃতীয়বারের মত আক্রান্ত হয়েছে এরকম রোগীরও ওমিক্রন পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগী জিনোম সিকোয়েন্স করে ৬৫ শতাংশ রোগীতে অমিক্রন এবং ৩৫ শতাংশ রােগীতে ডেল্টা পাওয়া গেছে।
৪. মৃদু উপসর্গের কারণে ওমিক্রন রোগীদের থেকে দ্রুত সংক্রমণ প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট থেকে কম মাথাব্যথা এবং সর্দির মতো উপসর্গ হয়। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তির সম্ভাবনা কম।
এমএইচ/এএস