ধর্ম ডেস্ক
০১ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৩১ পিএম
মহানবী (স.) আল্লাহ তায়ালার আদেশ পেয়ে ৬২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশে হিজরত শুরু করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ৬২২ সাল মোতাবেক ৮ রবিউল আওয়াল মদিনার পার্শ্ববর্তী কোবায় পৌঁছান তিনি। যাত্রাপথে একাধিক ঘটনার মধ্যে একটি হলো- খোজাআহ গোত্রের উম্মে মাবাদের তাঁবুতে অবস্থান ও অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ।
খোজাআহ গোত্রের বিখ্যাত অতিথিপরায়ণ মহিলা উম্মে মাবাদের তাঁবুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, পানাহারের কিছু আছে কি-না? ওই মহিলার অভ্যাস ছিল তিনি তাঁবুর বাইরে বসে থাকতেন মেহমানের অপেক্ষায়। মেহমান পেলে তাকে কিছু খাওয়াতেন। কিন্তু সেদিন এমন হয়েছিল যে, বাড়িতে পানাহারের মতো কিছুই ছিল না। তখন দুর্ভিক্ষের সময় চলছিল। বকরিগুলো সব মাঠে নিয়ে গেছে স্বামী আবু মাবাদ। একটি বকরি বেশি দুর্বল হওয়ার কারণে মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়নি। সেটি তাঁবুর এক কোণে বাঁধা ছিল। রাসুলুল্লাহ (স.) সেটি থেকে দুধ দোহন করার অনুমতি চাইলেন। উম্মে মাবাদ বললেন, ওর ওলানে কিছু থাকলে আমিই আপনাদের দোহন করে দিতাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (স.) অনুমতি পেয়ে বকরিটির ওলানে ‘বিসমিল্লাহ’বলে হাত রাখলেন ও বরকতের দোয়া করলেন। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর ইচ্ছায় বকরিটির ওলান দুধে পূর্ণ হয়ে গেল। তারপর তিনি দোহন করতে থাকলেন। তাতে দ্রুত পাত্র পূর্ণ হয়ে গেল। প্রথমে বাড়িওয়ালী উম্মে মাবাদকে পান করালেন। তারপর সঙ্গীদের এবং সবশেষে রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে পান করলেন। এরপরে এক পাত্র পূর্ণ করে উম্মে মাবাদের কাছে রেখে তাঁরা পুনরায় যাত্রা করলেন। অল্পক্ষণ পরেই আবু মাবাদ বাড়িতে ফিরে সব ঘটনা শুনে অবাক হয়ে গেলেন।
সেসময় উম্মে মাবাদ তাঁর স্বামীকে নবীজি দেখতে কেমন এবং তাঁর কাফেলা সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছিলেন। বেদুঈন নারী সহজভাবে মহানবী (স.) সম্পর্কে যে বর্ণনাটি দিয়েছেন, তা এখানে তুলে ধরা হলো।